ডিপ্রেশনের লক্ষণসমূহ কি কি? কিভাবে ডিপ্রেশন থেকে মুক্তি পাবেন !!!


ডিপ্রেশনের লক্ষণসমূহঃ

বেশ কিছু লক্ষণ আছে যেগুলো প্রতিনিয়ত আপনার সাথে ঘটলে বুঝবেন আপনি ডিপ্রেশনে আছেন।

১।ঘুমের সমস্যাঃযেমন, খুব বেশি বা খুব কম ঘুমানো; প্রধানত দিনের বেলা ঘুমানো।

২। আগ্রহের পরিবর্তনঃ আপনি প্রতিনিয়ত যে কাজ গুলো করতেন তার প্রতি আগ্রহ কমে যাওয়া বা একদম আগ্রহ না থাকাও ডিপ্রেশনের আর একটি বড় লক্ষণ।

৩। ক্ষুধার পরিবর্তনঃ যেমন, অতিরিক্ত খাওয়া কিংবা একদম কম খাওয়া।

৪। আত্মঘাতী চিন্তা, পরিকল্পনা বা আচরণঃ নিজকে শেষ করে দেওয়ার ইচ্ছে ,ইচ্ছাকৃতভাবে নিজের ক্ষতিসাধন করা ।

৫। সবসময় নিজের ভিতর অপরাধবোধ কাজ করাঃসব সময় নিজেকে অপরাধী মনে করাও ডিপ্রেশনের একটা লক্ষণ ।

৬। খিটখিটে মেজাজ বা হুটহাট রেগে যাওয়া।

উপরোক্ত লক্ষণসমূহ যদি আপনার ভিতর ১ দিন,২দিন কিংবা ৩ দিন দেখা দেয় ,পরে যদি না ঘটে ,আর ঘটলেও ১ মাস কিংবা ২ মাস পর ঘটে তাহলে বুঝবেন এটা স্রেফ টেনশন।কারণ আপনি ডিপ্রেসড থাকলে এই লক্ষণগুলো আপনার সাথে প্রতিনিয়ত ঘটতে থাকবে।


যেভাবে ডিপ্রেশন থেকে মুক্তি পাবেনঃ---

ঠিক আছে, আমি বিষণ্ণ বোধ করছি... এখন আমার কি করা উচিত?
এখন আপনি বিষণ্নতার লক্ষণগুলি জানেন, কিছু ইতিবাচক চিন্তাভাবনা করার দক্ষতায় কার্যকর হতে হবে। নিম্নলিখিত সমস্ত কৌশলগুলি বৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং ওষুধের পরামর্শদাতাদের দ্বারা সমর্থিত - যেমন সাইকিয়াট্রিস্টরা - এবং এই দক্ষতাগুলি প্রায়শই চিকিতসার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসাবে সুপারিশ করা হয় এমন রোগীদের জন্যও যারা অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট ও ষুধ সেবন করে চলেছেন।

সাতটি কৌশলকে MY PEERS এর সংক্ষিপ্ত রূপ দিয়ে মুখস্থ করা যায়।

1. Meaning : 
অন্যদের সেবা করার জন্য ছোট উপায় খুঁজুন।
অন্যদের সাহায্য করার মানুষিকতা তৈরি করতে হবে ।ছোট উপকার হলেও করার চেষ্টা করুন ।অন্যদের সাহায্য করার মধ্য দিয়ে প্রশান্তি লাভ করা যায় ।আর এটা আপনাকে অনেক রিলাক্স ফিল করাবে।

2.Your goals: 
কার্যকরী লক্ষ্যগুলি খুঁজুন যা আপনাকে কৃতিত্বের অনুভূতি দেয়।বেশিরভাগ লোকেরা লক্ষ্য সম্পর্কে কথা বলার সময় সমস্যা বোধ করে কারণ তারা অযৌক্তিক বা অকার্যকর লক্ষ্য সেট করে। 

একটি লক্ষ্য কার্যকর হবে যদি নিম্নের বিষয়গুলো থাকেঃ-

  • আপনি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন এমন কিছু (যেমন, এটি অন্যের উপর নির্ভর করে না)
  • পরিচালনাযোগ্য (যেমন, অপ্রতিরোধ্য নয়)
  • আপনার জন্য বাস্তবসম্মত (অন্য কারো জন্য নয়)
  • পরিমাপযোগ্য (অর্থাৎ, আপনি জানেন যে কি করা হয়েছে বা করা হচ্ছে কিনা)

3. Pleasant Events:
 পুরুস্কৃত করার  মাধ্যমে নিজেকে খুশি করা । যেমনঃআপনি একটা কাজ করতেছেন ,তখন নিজেকে বলবেন যে আমি এই কাজ টি শেষ করে ২০ মিনেটের জন্য নদীর পার ঘুরতে যাবো কিংবা অন্য কিছু ।
এইরকম ছোট ছোট পুরুস্কার গুলো আপনাকে অনেক খুশি রাখবে ।  

4. Engagement:
বর্তমানের মধ্যে থাকুন।এই অনুশীলনকে কখনও কখনও মননশীলতা / mindfulness বলা হয়। অতীতে যা ঘটেছে ,তা চাইলেও পরিবর্তন করা যাবে না ,আবার ভবিষ্যতে কি ঘটবে তাও আমরা জানি না ।তাই অতীত নিয়ে ভাবা বন্ধ করে বর্তমান নিয়ে ভাবতে হবে এবং ভবিষ্যতের জন্য পরিকল্পনা করতে হবে । 


5. Exercise: And, eat right too.
নিয়মিত ব্যায়াম করা এবং সঠিক সময়ে খেতে হবে । নিয়মিত অন্তত ৩০ মিনিট ব্যায়াম করতে হবে ।ব্যায়াম করলে আমাদের মেজাজ অনেক নিয়ন্তিত থাকে।এইভাবে যদি আপনি নিয়মিত ব্যায়াম করতে পারেন তাহলে নাটকীয়ভাবে আপনার মন-মানুষিকতায় একটা ফ্রেশ ভাব চলে আসবে ।


7.Sleep Regularly:
নিয়মিত ঘুমের সময়সূচী রাখার চেষ্টা করুন।
খুব কম এবং খুব বেশি ঘুম না দিয়ে ভারসাম্য বজায় রাখুন। রাত জেগে থাকা এবং পরের দিন অত্যধিক ঘুমানো হতাশায় নিমজ্জিত হওয়ার একটি নিশ্চিত উপায়।মাথায় ঘুম রেখে কোনো সমস্যা সমাধান করার চেষ্টা করবেন না।

এই সাতটি নিয়ম যদি আপনি নিয়মিত পালন  করতে পারেন ,তাহলে খুব শীঘ্রই দেখবেন আপনার ভিতর থেকে বিষণ্নতা ,হতাশা সব দূর হয়ে গেছে। 






 

2 Comments

  1. লেখা গুলো খুব ভালো লাগছে

    ReplyDelete
Post a Comment
Previous Post Next Post

Tag Terpopuler